Category: বিনোদন
Jan 11, 2009
Source: bdnews24.com
Source: bdnews24.com
হ্যারি পটারের স্রষ্টা
৩১ জুলাই ১৯৬৫ সালে ইংল্যান্ডের দক্ষিণে গ্লুসেস্টারশায়ারের ছোট্ট একটি শহর ইয়েটে জন্ম নেয়া একটি ছোট্ট মেয়ে। নাম তার জে কে রাউলিং। জীবনের নানা ঘাত প্রতিঘাত পার হয়ে কী করে পৌছুলেন তিনি জাদুর মায়াবি জগতে? তৈরি করলেন হ্যারি পটারের বিশ্বলোক? কী করে জয় করলেন বিশ্বের সকল শিশুর হৃদয় এই প্রতিভাধর মানুষটি - সেই গল্পই আজ শোনাবো তোমাদের।
ছোট্ট মেয়ে রাউলিং
তোমরা তো ছোট ভাইবোনদের নানা মজার গল্প শোনাও, তাই না? তবে তোমাদের প্রিয় জে কে রাউলিং কিন্তু কেবল বলতেনই না বরং ছোট বোন ডায়ানা ও বন্ধুদের আনন্দ দিতে মজার মজার গল্পও লিখতেন। রাউলিংয়ের পুরো নাম জোয়ান্না ক্যাথলিন রাউলিংয়ের (Joanne Kathleen Rowling))। ইংল্যান্ডের দক্ষিণের ছোট্ট শহর ইয়েটে তার জন্ম ৩১ জুলাই ১৯৬৫ সালে।
অনেকটা গ্রাম্য জীবনের আবহেই বেড়ে উঠেছেন রাউলিং। তার বাবা পিটার ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আর মা অ্যানি গবেষণাগারের টেকনিশিয়ান। পিটার ও অ্যানি ছোটবেলা থেকেই তাদের দুই মেয়েকে মজার মজার গল্পের বই কিনে দিতেন। রাউলিংয়ের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতাই পরে তার লেখালেখির উপাদান যুগিয়েছে।
তিনি ইংরেজদের গ্রামগুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন, দেখেছেন তাদের দুর্গসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন যেগুলো পরে তার কল্পনার ইন্ধন যুগিয়েছে। রাউলিং বিজ্ঞান আর অঙ্কের ক্লাসগুলো খুবই অপছন্দ করতেন কিন্তু সাহিত্যের ক্লাসে খুবই মজা পেতেন।
টিনএজ বয়সে তিনি স্বপ্ন দেখতেন একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক হওয়ার। আর ভাবতেন, তার লেখা বই দোকানে হটকেকের মতো বিক্রি হবে। কী আশ্চর্য্, শেষ অবধি তার স্বপ্ন সত্যিই পুরণ হয়েছে। অবশ্য নিজের এ স্বপ্নের কথা ছোটবেলায় লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি মনের গহিনে। ভয় ছিল অন্যেরা তার লেখাকে দুর্বল আর কাঁচা বলে সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু রাউলিং দিনে দিনে নিজের ভেতর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে শুরু করলেন আর তার আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া গেল যখন স্কুলের ফাইনাল ইয়ারে গিয়ে তিনি বন্ধুদের কাছ থেকে নাম পেলেন ‘হেড গার্ল ’ অর্থাৎ মেধাবী মেয়ে।
হ্যারি পটারের জন্ম
বড় হয়ে দোভাষী সেক্রেটারি হিসেবে কাজ পাওয়ার জন্য জে কে রাউলিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ভাষার ওপর পড়াশোনা করতে লাগলেন। ফ্রেঞ্চ ও প্রাচীন গ্রিক-রোমান সাহিত্যের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিলেন তিনি। এই সকল ভারী ভারী জ্ঞান পরে তাকে হ্যারি পটার বইয়ের বুদ্ধিমান চরিত্রগুলো সৃষ্টিতে খুবই সাহায্য করেছিল।
মায়াবি জগতের এই ফিকশন সিরিজটি লেখা শুরুর আগে নানা জায়গায় চাকরি করেছেন রাউলিং। ২৬ বছর বয়সে চলে যান পর্তুগালে, সেখানে তিনি ইংরেজি শেখাতেন। ওই সময় পুর্তগিজ সাংবাদিক জর্জ অ্যারান্টেসকে বিয়ে করেন। ১৯৯৩ সালে আগস্টে রাউলিংয়ের কোল জুড়ে জন্ম নিলো তাদের মেয়ে জেসিকা।
হ্যরি পটার সিরিজের প্রথম গল্পটি ১৯৯৫ সালে লেখা শেষ করলেও এই চরিত্রটির আইডিয়া তার মাথায় আসে প্রায় পাঁচ বছর আগে। লোকজনে ভর্তি এক পাতাল ট্রেনে চড়ে ম্যানচেষ্টার থেকে লন্ডন যাচ্ছিলেন রাউলিং। এই প্রচণ্ড ভিড় এবং বিরক্তিকর জায়গায় হঠাৎ করেই তার কল্পনার জগতে উঁকি দিল এতিম এক ছেলে। যে ছেলেটি বাস করে তার নিচু মনের এক ফুফু ও ফুপার বাড়িতে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, ছেলেটি জানে না আসলে সে মায়াবী ক্ষমতাধর এক জাদুকর।
একই সঙ্গে হ্যারির চেহারাটাও ভেসে ওঠে তার মানসপটে। এ অভিজ্ঞতাটি লেখিকা রাউলিং বর্ণনা করেছেন এভাবে - “খুব ছোটবেলা থেকে লিখলেও এই আইডিয়াটির মতো কোনো ব্যাপারে আমি এতো উত্তেজিত হইনি। ট্রেন ভ্রমণের প্রায় চার ঘণ্টা বসে আমি পুরো বিষয়টি নিয়ে ভাবলাম। মনের চোখে দেখতে পেলাম মোটা ফ্রেমের চশমা পরিহিত কালো চুলের হ্যারিকে; যে জানে না সে বিষ্ময়কর জাদুকরি ক্ষমতাধর একটি ছেলে।”- ওই সময় থেকেই তিনি এতিম এই ছেলেকে নিয়ে একটি গল্প লিখতে আরম্ভ করেন হ্যারি পটারের গল্প।
রাউলিং সকালে লিখতেন ও বিকালে এবং রাতে শিক্ষকতা করতেন। ১৯৯৫ সাল নাগাদ স্বামী অ্যারান্টেসের সঙ্গে তার বনিবনা না হওয়ায় ছোট্ট জেসিকাকে নিয়ে রাউলিং চলে আসেন স্কটল্যান্ডের এডিনবরায়। সেখানে থাকতেন তার ছোট বোন ডায়ানা। ডায়ানা তাকে হ্যরি পটারের গল্পটি লেখা শেষ করার তাগাদা দিতেন।
প্রথম দিকে নিজের বাচ্চার খরচ সামলানোর সামর্থ্য রাউলিংয়ের ছিল না। এ কারণে তিনি চলে গেলেন সরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে, আর এরই ফাঁকে চলতে থাকলো লেখা। পরে অবশ্য তিনি একটি স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজ পান। লেখালেখি কিন্তু তার থেমে থাকেনি। কখনো কখনো ক্যাফের মধ্যে খুব দ্রুত লিখতেন সেসময় হয়তো ছোট্ট মেয়ে জেসিকা ঘুমিয়ে থাকতো তার পাশে।
এভাবেই জে কে রাউলিংয়ের হাতে একসময় জন্ম নিলো শিশুসাহিত্যের অমর চরিত্র হ্যারি পটার।
হ্যারি পটারের মায়াবি ভুবন
সমালোচকদের ধারণা, হ্যারি পটারের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ এর বইগুলোতে স্কুলের গল্প আর মায়াবী কল্পনার মিশেল। যদিও রাউলিংয়ের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় এগুলো বাস্তবতার কাছাকাছি চলে এসেছে। তিনি সিরিয়াস ইস্যুগুলো - যেমন আত্মোৎসর্গ বা মৃত্যু এড়িয়ে যাননি। মজার বিষয় হলো, হ্যারি পটার সিরিজের বইগুলো খুব সফলভাবেই বড় ও ছোটদের বইয়ের মধ্যকার দেয়াল ভেঙে দিয়েছে। এই চরিত্রটি ও তার বন্ধুরা সমানভাবেই সকলের কাছে জনপ্রিয়। জে কে রাউলিংয়ের জনপ্রিয়তা আজ যেমন এক ভিন্ন মাত্রায় পৌছে গেছে তেমনি তার কল্পনায় যে এতিম ছেলেটির জন্ম হয়েছিল সে স্থান করে নিয়েছে সকলের হৃদয়ে।
রাউলিংয়ের চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রথম দিকে বেশ কয়েকজন প্রকাশক বাতিল করে দেন। যদিও অবশেষে ব্লুমসবারি (Bloomsbury) প্রেস ১৯৯৬ সালে তার লেখাটি কিনে নেয় ও বৃটেন থেকে ২৬ জুন ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি ফিলসফারস স্টোন’। বইটি ওই ছোট্ট ছেলেটিকে নিয়ে যে ১১ বছর বয়সে তার জাদুকরি ক্ষমতার পরিচয় পায়। আর এরপরেই সে ডাকিনী ও মায়াবিদ্যার স্কুল হগওয়ার্টসে ভর্তি হয়।
বইটি প্রকাশের পরের বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা স্কলাস্টিকা ইনকর্পোরেটেড কিনে নেয় ও আমেরিকায় ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি সরসারার্স স্টোন’ নামে প্রকাশিত হয়।
প্রথম থেকেই রাউলিংয়ের ইচ্ছা ছিল হ্যারি পটারের গল্পগুলো তিনি সাতটি বইয়ের সিরিজে লিখবেন। প্রতি বছর একটা বই, হগওয়ার্টসে হ্যারির ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে মাধ্যমিক স্কুল জীবনের প্রত্যেকটা বছর। দ্বিতীয় বই ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি চেম্বার অফ সিক্রেটস’ প্রকাশিত হয় বৃটেন থেকে ১৯৯৮ সালে এবং এর পরের বছর আমেরিকায়। এ বইটি লিখতে স্কটিশ আর্ট কাউন্সিলের কাছ থেকে অনুদান পেয়েছিলেন রাউলিং। তৃতীয় ভলিউম, ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি প্রিজনার অফ আজকাবান ’দুই দেশেই একই সঙ্গে প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে।
হ্যারি পটারের বইগুলো বাংলাসহ প্রায় ৩০টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
হ্যারি পটারের চতুর্থ ভলিউম ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি গবলেট অফ ফায়ার ’ জুলাই ২০০০ সালে প্রকাশিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই বেস্টসেলার লিস্টে চলে আসে। পঞ্চম ভলিউম ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি অর্ডার অফ দি ফিনিক্স’ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। প্রকাশনার দিনই অর্থাৎ ২১ জুলাই ৫০ লাখ কপি বিক্রির মাধ্যমে বইটি প্রকাশনার রেকর্ড ভাঙে। হ্যারি পটারের এর আগের বইটি প্রকাশনার দিন ৩০ লাখ কপি বিক্রির মধ্যে দিয়ে রেকর্ড গড়েছিল। ছয় নাম্বার কিস্তি, ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি হাফ ব্লাড প্রিন্স ’ প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের জুলাইয়ে। আর সপ্তম ভলিউম - ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি ডেথলি হলোস’, রাউলিংয়ের ভাষায় হ্যারি পটারের চূড়ান্ত পর্বটি প্রকাশিত হয়েছে ২০০৮ সালের ২১ জুলাই শনিবার।
এ সিরিজের বই নিয়ে এরই মধ্যে পাঁচটি জনপ্রিয় মুভি তৈরি হয়েছে : হ্যারি পটার অ্যান্ড দি সরসারার্স স্টোন (২০০১), হ্যারি পটার অ্যান্ড দি চেম্বার অফ সিক্রেটস (২০০২), হ্যারি পটার অ্যান্ড দি প্রিজনার অফ আজকাবান (২০০৪), হ্যারি পটার অ্যান্ড দি গবলেট অফ ফায়ার (২০০৫) ও হ্যারি পটার অ্যান্ড দি অর্ডার অফ দি ফিনিক্স (২০০৭)। শুধু কী তাই, ছোটদের জন্য তৈরি হয়েছে মজার মজার গেমস।
প্রোফাইল অফ হ্যারি জেমস পটার
ছোট্ট ছেলেটির পুরো নাম হ্যারি জেমস পটার। জেমস ও লিলি পটারের একমাত্র সন্তান হ্যারি। কালচে বাদামি রঙের চুল আর তার চোখের রঙ উজ্জ্বল সবুজ। লোকজন বলাবলি করে, সে দেখতে অনেকটা তার বাবার মতোই হয়েছে, বিশেষ করে তার অগোছালো চুল। অবশ্য ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক গুণসহ সবুজ রঙের চোখ জোড়া তার মায়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বংশকুলের দিক থেকে হ্যারি হাফ-ব্লাড। জাদুকরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারাই যারা পিওর-ব্লাডের। গুরুত্বের দিক থেকে এরপর আছে হাফ-ব্লাড ও তারপর মাগল-ব্লাড। যদিও হ্যারির বাবা-মা দু’জনেই ম্যাজিকাল তবে লিলি ইভান্স জন্মগতভাবে মাগল-বর্ন। হ্যারির বাবা ছিলেন পিওর-ব্লাড পরিবারের বড় সন্তান। পরিপূর্ণ শুদ্ধ রক্তের অধিকারী তারাই যাদের বাð
ছোট্ট মেয়ে রাউলিং
তোমরা তো ছোট ভাইবোনদের নানা মজার গল্প শোনাও, তাই না? তবে তোমাদের প্রিয় জে কে রাউলিং কিন্তু কেবল বলতেনই না বরং ছোট বোন ডায়ানা ও বন্ধুদের আনন্দ দিতে মজার মজার গল্পও লিখতেন। রাউলিংয়ের পুরো নাম জোয়ান্না ক্যাথলিন রাউলিংয়ের (Joanne Kathleen Rowling))। ইংল্যান্ডের দক্ষিণের ছোট্ট শহর ইয়েটে তার জন্ম ৩১ জুলাই ১৯৬৫ সালে।
অনেকটা গ্রাম্য জীবনের আবহেই বেড়ে উঠেছেন রাউলিং। তার বাবা পিটার ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আর মা অ্যানি গবেষণাগারের টেকনিশিয়ান। পিটার ও অ্যানি ছোটবেলা থেকেই তাদের দুই মেয়েকে মজার মজার গল্পের বই কিনে দিতেন। রাউলিংয়ের ছেলেবেলার অভিজ্ঞতাই পরে তার লেখালেখির উপাদান যুগিয়েছে।
তিনি ইংরেজদের গ্রামগুলোতে ঘুরে বেড়িয়েছেন, দেখেছেন তাদের দুর্গসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন যেগুলো পরে তার কল্পনার ইন্ধন যুগিয়েছে। রাউলিং বিজ্ঞান আর অঙ্কের ক্লাসগুলো খুবই অপছন্দ করতেন কিন্তু সাহিত্যের ক্লাসে খুবই মজা পেতেন।
টিনএজ বয়সে তিনি স্বপ্ন দেখতেন একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক হওয়ার। আর ভাবতেন, তার লেখা বই দোকানে হটকেকের মতো বিক্রি হবে। কী আশ্চর্য্, শেষ অবধি তার স্বপ্ন সত্যিই পুরণ হয়েছে। অবশ্য নিজের এ স্বপ্নের কথা ছোটবেলায় লুকিয়ে রেখেছিলেন তিনি মনের গহিনে। ভয় ছিল অন্যেরা তার লেখাকে দুর্বল আর কাঁচা বলে সমালোচনা করতে পারে। কিন্তু রাউলিং দিনে দিনে নিজের ভেতর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে শুরু করলেন আর তার আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া গেল যখন স্কুলের ফাইনাল ইয়ারে গিয়ে তিনি বন্ধুদের কাছ থেকে নাম পেলেন ‘হেড গার্ল ’ অর্থাৎ মেধাবী মেয়ে।
হ্যারি পটারের জন্ম
বড় হয়ে দোভাষী সেক্রেটারি হিসেবে কাজ পাওয়ার জন্য জে কে রাউলিং বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি ভাষার ওপর পড়াশোনা করতে লাগলেন। ফ্রেঞ্চ ও প্রাচীন গ্রিক-রোমান সাহিত্যের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি নিলেন তিনি। এই সকল ভারী ভারী জ্ঞান পরে তাকে হ্যারি পটার বইয়ের বুদ্ধিমান চরিত্রগুলো সৃষ্টিতে খুবই সাহায্য করেছিল।
মায়াবি জগতের এই ফিকশন সিরিজটি লেখা শুরুর আগে নানা জায়গায় চাকরি করেছেন রাউলিং। ২৬ বছর বয়সে চলে যান পর্তুগালে, সেখানে তিনি ইংরেজি শেখাতেন। ওই সময় পুর্তগিজ সাংবাদিক জর্জ অ্যারান্টেসকে বিয়ে করেন। ১৯৯৩ সালে আগস্টে রাউলিংয়ের কোল জুড়ে জন্ম নিলো তাদের মেয়ে জেসিকা।
হ্যরি পটার সিরিজের প্রথম গল্পটি ১৯৯৫ সালে লেখা শেষ করলেও এই চরিত্রটির আইডিয়া তার মাথায় আসে প্রায় পাঁচ বছর আগে। লোকজনে ভর্তি এক পাতাল ট্রেনে চড়ে ম্যানচেষ্টার থেকে লন্ডন যাচ্ছিলেন রাউলিং। এই প্রচণ্ড ভিড় এবং বিরক্তিকর জায়গায় হঠাৎ করেই তার কল্পনার জগতে উঁকি দিল এতিম এক ছেলে। যে ছেলেটি বাস করে তার নিচু মনের এক ফুফু ও ফুপার বাড়িতে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, ছেলেটি জানে না আসলে সে মায়াবী ক্ষমতাধর এক জাদুকর।
একই সঙ্গে হ্যারির চেহারাটাও ভেসে ওঠে তার মানসপটে। এ অভিজ্ঞতাটি লেখিকা রাউলিং বর্ণনা করেছেন এভাবে - “খুব ছোটবেলা থেকে লিখলেও এই আইডিয়াটির মতো কোনো ব্যাপারে আমি এতো উত্তেজিত হইনি। ট্রেন ভ্রমণের প্রায় চার ঘণ্টা বসে আমি পুরো বিষয়টি নিয়ে ভাবলাম। মনের চোখে দেখতে পেলাম মোটা ফ্রেমের চশমা পরিহিত কালো চুলের হ্যারিকে; যে জানে না সে বিষ্ময়কর জাদুকরি ক্ষমতাধর একটি ছেলে।”- ওই সময় থেকেই তিনি এতিম এই ছেলেকে নিয়ে একটি গল্প লিখতে আরম্ভ করেন হ্যারি পটারের গল্প।
রাউলিং সকালে লিখতেন ও বিকালে এবং রাতে শিক্ষকতা করতেন। ১৯৯৫ সাল নাগাদ স্বামী অ্যারান্টেসের সঙ্গে তার বনিবনা না হওয়ায় ছোট্ট জেসিকাকে নিয়ে রাউলিং চলে আসেন স্কটল্যান্ডের এডিনবরায়। সেখানে থাকতেন তার ছোট বোন ডায়ানা। ডায়ানা তাকে হ্যরি পটারের গল্পটি লেখা শেষ করার তাগাদা দিতেন।
প্রথম দিকে নিজের বাচ্চার খরচ সামলানোর সামর্থ্য রাউলিংয়ের ছিল না। এ কারণে তিনি চলে গেলেন সরকারি সাহায্য সংস্থাগুলোর কাছে, আর এরই ফাঁকে চলতে থাকলো লেখা। পরে অবশ্য তিনি একটি স্থানীয় একটি স্কুলে শিক্ষকতার কাজ পান। লেখালেখি কিন্তু তার থেমে থাকেনি। কখনো কখনো ক্যাফের মধ্যে খুব দ্রুত লিখতেন সেসময় হয়তো ছোট্ট মেয়ে জেসিকা ঘুমিয়ে থাকতো তার পাশে।
এভাবেই জে কে রাউলিংয়ের হাতে একসময় জন্ম নিলো শিশুসাহিত্যের অমর চরিত্র হ্যারি পটার।
হ্যারি পটারের মায়াবি ভুবন
সমালোচকদের ধারণা, হ্যারি পটারের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ এর বইগুলোতে স্কুলের গল্প আর মায়াবী কল্পনার মিশেল। যদিও রাউলিংয়ের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় এগুলো বাস্তবতার কাছাকাছি চলে এসেছে। তিনি সিরিয়াস ইস্যুগুলো - যেমন আত্মোৎসর্গ বা মৃত্যু এড়িয়ে যাননি। মজার বিষয় হলো, হ্যারি পটার সিরিজের বইগুলো খুব সফলভাবেই বড় ও ছোটদের বইয়ের মধ্যকার দেয়াল ভেঙে দিয়েছে। এই চরিত্রটি ও তার বন্ধুরা সমানভাবেই সকলের কাছে জনপ্রিয়। জে কে রাউলিংয়ের জনপ্রিয়তা আজ যেমন এক ভিন্ন মাত্রায় পৌছে গেছে তেমনি তার কল্পনায় যে এতিম ছেলেটির জন্ম হয়েছিল সে স্থান করে নিয়েছে সকলের হৃদয়ে।
রাউলিংয়ের চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রথম দিকে বেশ কয়েকজন প্রকাশক বাতিল করে দেন। যদিও অবশেষে ব্লুমসবারি (Bloomsbury) প্রেস ১৯৯৬ সালে তার লেখাটি কিনে নেয় ও বৃটেন থেকে ২৬ জুন ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হয় ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি ফিলসফারস স্টোন’। বইটি ওই ছোট্ট ছেলেটিকে নিয়ে যে ১১ বছর বয়সে তার জাদুকরি ক্ষমতার পরিচয় পায়। আর এরপরেই সে ডাকিনী ও মায়াবিদ্যার স্কুল হগওয়ার্টসে ভর্তি হয়।
বইটি প্রকাশের পরের বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশনা সংস্থা স্কলাস্টিকা ইনকর্পোরেটেড কিনে নেয় ও আমেরিকায় ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি সরসারার্স স্টোন’ নামে প্রকাশিত হয়।
প্রথম থেকেই রাউলিংয়ের ইচ্ছা ছিল হ্যারি পটারের গল্পগুলো তিনি সাতটি বইয়ের সিরিজে লিখবেন। প্রতি বছর একটা বই, হগওয়ার্টসে হ্যারির ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে মাধ্যমিক স্কুল জীবনের প্রত্যেকটা বছর। দ্বিতীয় বই ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি চেম্বার অফ সিক্রেটস’ প্রকাশিত হয় বৃটেন থেকে ১৯৯৮ সালে এবং এর পরের বছর আমেরিকায়। এ বইটি লিখতে স্কটিশ আর্ট কাউন্সিলের কাছ থেকে অনুদান পেয়েছিলেন রাউলিং। তৃতীয় ভলিউম, ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি প্রিজনার অফ আজকাবান ’দুই দেশেই একই সঙ্গে প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে।
হ্যারি পটারের বইগুলো বাংলাসহ প্রায় ৩০টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
হ্যারি পটারের চতুর্থ ভলিউম ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি গবলেট অফ ফায়ার ’ জুলাই ২০০০ সালে প্রকাশিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগেই বেস্টসেলার লিস্টে চলে আসে। পঞ্চম ভলিউম ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি অর্ডার অফ দি ফিনিক্স’ বাজারে আসে ২০০৩ সালে। প্রকাশনার দিনই অর্থাৎ ২১ জুলাই ৫০ লাখ কপি বিক্রির মাধ্যমে বইটি প্রকাশনার রেকর্ড ভাঙে। হ্যারি পটারের এর আগের বইটি প্রকাশনার দিন ৩০ লাখ কপি বিক্রির মধ্যে দিয়ে রেকর্ড গড়েছিল। ছয় নাম্বার কিস্তি, ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি হাফ ব্লাড প্রিন্স ’ প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালের জুলাইয়ে। আর সপ্তম ভলিউম - ‘হ্যারি পটার অ্যান্ড দি ডেথলি হলোস’, রাউলিংয়ের ভাষায় হ্যারি পটারের চূড়ান্ত পর্বটি প্রকাশিত হয়েছে ২০০৮ সালের ২১ জুলাই শনিবার।
এ সিরিজের বই নিয়ে এরই মধ্যে পাঁচটি জনপ্রিয় মুভি তৈরি হয়েছে : হ্যারি পটার অ্যান্ড দি সরসারার্স স্টোন (২০০১), হ্যারি পটার অ্যান্ড দি চেম্বার অফ সিক্রেটস (২০০২), হ্যারি পটার অ্যান্ড দি প্রিজনার অফ আজকাবান (২০০৪), হ্যারি পটার অ্যান্ড দি গবলেট অফ ফায়ার (২০০৫) ও হ্যারি পটার অ্যান্ড দি অর্ডার অফ দি ফিনিক্স (২০০৭)। শুধু কী তাই, ছোটদের জন্য তৈরি হয়েছে মজার মজার গেমস।
প্রোফাইল অফ হ্যারি জেমস পটার
ছোট্ট ছেলেটির পুরো নাম হ্যারি জেমস পটার। জেমস ও লিলি পটারের একমাত্র সন্তান হ্যারি। কালচে বাদামি রঙের চুল আর তার চোখের রঙ উজ্জ্বল সবুজ। লোকজন বলাবলি করে, সে দেখতে অনেকটা তার বাবার মতোই হয়েছে, বিশেষ করে তার অগোছালো চুল। অবশ্য ব্যক্তিত্ব ও চারিত্রিক গুণসহ সবুজ রঙের চোখ জোড়া তার মায়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বংশকুলের দিক থেকে হ্যারি হাফ-ব্লাড। জাদুকরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারাই যারা পিওর-ব্লাডের। গুরুত্বের দিক থেকে এরপর আছে হাফ-ব্লাড ও তারপর মাগল-ব্লাড। যদিও হ্যারির বাবা-মা দু’জনেই ম্যাজিকাল তবে লিলি ইভান্স জন্মগতভাবে মাগল-বর্ন। হ্যারির বাবা ছিলেন পিওর-ব্লাড পরিবারের বড় সন্তান। পরিপূর্ণ শুদ্ধ রক্তের অধিকারী তারাই যাদের বাð







